হরমুজ খুলে দাও, নইলে কঠোর হামলা হবে-ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করলে খুব শিগগিরই সমঝোতা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আলোচনা ভেস্তে গেলে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পরও জাহাজ চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং সমঝোতা হলে এক বা দুই দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
এর আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, দ্রুত প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতির সমাধানে সমঝোতাই সবচেয়ে কার্যকর পথ। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে বলে ওয়াশিংটন আশাবাদী। তাঁর মতে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে-এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বলছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে ওমান ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা চলছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রও সম্পৃক্ত রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য এই চুক্তি ৬০ দিনের জন্য কার্যকর হতে পারে, যার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হবে। এদিকে কাতারও উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। দুই নেতা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছে দোহা।
এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে লোহিত সাগরে আরেকটি হামলার পর একটি ভারতীয় জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনাও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যদিও ওই জাহাজের সব নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এ নৌপথ ঘিরে চলমান উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।