ইরান সীমান্তে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি, উদ্ধার ১৪ তরুণের মরদেহ
কাজের সন্ধান ও উন্নত জীবনের আশায় অবৈধভাবে ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিমরোজ প্রদেশের মরুভূমি থেকে ১৪ তরুণ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র গরম, পানিশূন্যতা ও দীর্ঘ সময় খাদ্য-সংকটে থাকার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগে ১৯ জন আফগান তরুণ একটি গাড়িতে করে সীমান্ত অতিক্রমের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। তবে নিমরোজের মরুভূমিতে প্রবেশের পর তাদের গাড়িটি বিকল হয়ে পড়ে। পরে চালক সাহায্যের আশায় নিকটবর্তী একটি গ্রামে যান।
চালক সহায়তা নিয়ে ফিরে আসার আগেই দলের সদস্যরা প্রচণ্ড গরমে দিক হারিয়ে মরুভূমির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েন। প্রথম দফার অনুসন্ধানে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বাকি ১৪ জন নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে যৌথ উদ্ধার অভিযানে মরুভূমির বালুচাপা অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিমরোজ প্রাদেশিক প্রশাসনের মুখপাত্র আবদুল মুতাওয়াকিল তাওহিদি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, পানিশূন্যতা এবং শারীরিক অবসাদের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। বছরের এই সময়ে আফগানিস্তান-ইরান সীমান্তবর্তী নিমরোজ অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রায়ই ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে এমন কিছু চিহ্নও পেয়েছেন, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, প্রচণ্ড রোদ থেকে বাঁচতে নিহতরা কাঠ ও ছেঁড়া কাপড় দিয়ে অস্থায়ী আশ্রয় তৈরির চেষ্টা করেছিলেন।
নিহতদের স্বজনরা জানান, আফগানিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব এবং কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বিদেশে পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রায় ২৩ দিন আগে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া এসব তরুণের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর নিজ নিজ এলাকায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এ ঘটনায় তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মতিন কানি জানিয়েছেন, মানবপাচার ও অবৈধ সীমান্ত পারাপার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ কর্মসংস্থান ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সীমিত থাকায় প্রতিবছর অসংখ্য আফগান নাগরিক জীবন বাজি রেখে বিপজ্জনক সীমান্তপথ বেছে নেন। কখনও প্রচণ্ড শীত, আবার কখনও তীব্র দাবদাহে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। গত বছরের ডিসেম্বরেও সীমান্ত এলাকায় তীব্র শীতে জমে অন্তত ১৮ জন আফগান অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছিল।