‘ককরোচ’ মন্তব্যে বিতর্কে আরএএফ কর্মকর্তা সোনিয়া সেহরাওয়াত
ভারতের কেন্দ্রীয় বিশেষায়িত বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) কর্মকর্তা সোনিয়া সেহরাওয়াত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ইনস্টাগ্রামে ৬ লাখের বেশি অনুসারী থাকা এই কর্মকর্তা সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করায় সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন সোনিয়া। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি মৃত তেলাপোকার ছবি প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, ‘নিজেরা ঠিক হতে পারে না, অথচ দেশ ঠিক করতে এসেছে।’ পোস্টটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে পোস্টটি মুছে ফেললেও বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। সিজেপি এক্সে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় অভিযোগ করে, আন্দোলনকারীদের প্রতি অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এমন মন্তব্য করা হয়েছে। সংগঠনটি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে লিখেছে, ‘আমরা তেলাপোকা, আর তেলাপোকা কখনও মরে না।’
ভারতের সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় রাজনৈতিক বা বিতর্কিত মন্তব্য করা এবং এমন আচরণ যা পেশাগত নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করে, তা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হলেও দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের মন্তব্য কর্মকর্তাদের আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থানের দিকে নজর রয়েছে।
এদিকে আরও একটি বিষয় আলোচনায় এসেছে। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউনিফর্ম পরা প্রোফাইল ছবি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হলেও সোনিয়ার অ্যাকাউন্টে ইউনিফর্ম পরা ছবি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন সোনিয়া। বিভিন্ন সময় ভ্রমণ, ব্যক্তিগত জীবনধারা, মোটরসাইকেল চালানো এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে থাকেন তিনি। এসব পোস্ট নিয়েও বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে আলোচনা চলছে।
তবে এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সোনিয়া সেহরাওয়াত। তার দাবি, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি ও রাজনৈতিক কর্মী ঢুকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছে। আন্দোলন চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, জুতা ও বোতল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সোনিয়া আরও দাবি করেন, আন্দোলনস্থলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে নারী আন্দোলনকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময় তার শরীরে আঘাত লাগে এবং হাতে চোট পান বলে জানান এই আরএএফ কর্মকর্তা।
ঘটনাটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।