প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের ঘোষণা, তরুণদের বার্তা মোদির
ভারতে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে চলমান বিতর্ক ও আন্দোলনের মধ্যে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মোদি বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। এ কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা শিক্ষার্থী ও তরুণদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন এবং সংসদে বিরোধী দলের প্রতিবাদের মধ্যেই মোদির এ ঘোষণা এসেছে। বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে এ ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছে।
বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, গত এক দশকে ভারতে ১৫০টিরও বেশি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কার্যকর বিচার বা দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে এনডিএ জোটের এক বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী আন্দোলন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেছে বিরোধী দলগুলো।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বিভিন্ন সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দল। তাদের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করা হলেও বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।