লেবানন-ইসরাইল চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন নেতানিয়াহু
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া নতুন নিরাপত্তা কাঠামোকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১৭ জুন) চুক্তি-পরবর্তী ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, এই ফ্রেমওয়ার্ক সমঝোতা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে প্রয়োজন হলে ইসরাইলের উপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করেছে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, এই চুক্তিকে ঘিরে ইরান ও হিজবুল্লাহর সমালোচনা প্রত্যাশিত। তার দাবি, সমঝোতার মাধ্যমে ইসরাইল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্র একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, লেবাননের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইরান কিংবা হিজবুল্লাহর কোনো ভূমিকা বা প্রভাব গ্রহণযোগ্য নয়। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের অল্প সময়ের মধ্যেই তা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে ইসরাইলের বিরুদ্ধে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, শনিবার নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হামলার স্থানটি ঘোষিত নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরে ছিল।
অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওই এলাকায় স্থলবাহিনী মোতায়েন না থাকায় ড্রোনের মাধ্যমে এমন একজনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যাকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। এদিকে ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত ইসরাইল-লেবানন ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি দাবি করেছে, এই সমঝোতা লেবাননের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করে এবং কার্যত ইসরাইলের দখলদারিত্বকে বৈধতা দেয়।
হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম বলেন, ওয়াশিংটনের এই চুক্তি লেবাননের জন্য অপমানজনক এবং দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, এই চুক্তির পরিবর্তে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে নতুন কাঠামো গ্রহণ করা উচিত। এদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ জানিয়েছেন, লেবাননের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইরান বা হিজবুল্লাহর কোনো ভূমিকা থাকবে না। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া এবং ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই।