দীর্ঘ কারাবাস শেষে বাড়ি ফিরে ,সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা আইভীর
দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিন বহাল থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বুধবার রাতে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মধ্যরাতে নিজ শহর নারায়ণগঞ্জে ফেরেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত তার পারিবারিক বাসভবন ‘চুনকা কুটিরে’ পৌঁছান।
আইভীর বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। বাসভবনে পৌঁছে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সাবেক এই মেয়র বলেন, “বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমি চাই, সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক সরকার গড়ে উঠুক। দেশের মানুষ যেন ন্যায়বিচার ও মানবিক আচরণ পায়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
কারাগারে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আইভী বলেন, কারাগারে তার মতো অনেক নারী ও মায়ের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তাদের মধ্যে যারা নিরপরাধ কিংবা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত, তাদের প্রতি সরকার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “জেলে আমার মতো অনেক মা রয়েছেন। তাদের মধ্যে যারা নিরপরাধ, তাদের বিষয়ে সরকার সদয় হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।” এদিকে আইভীর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তার বিরুদ্ধে থাকা ১২টি মামলায় উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিন বহাল রয়েছে। আদালতের আদেশ যাচাই-বাছাই এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, আদালতের নির্দেশনা ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সেলিনা হায়াৎ আইভীর মুক্তি কার্যকর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিভিন্ন হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং অন্যান্য অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলায় কারাবন্দি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মামলায় জামিন লাভ করেন তিনি। সর্বশেষ অবশিষ্ট আইনি জটিলতা নিরসনের পর বুধবার রাতে কারামুক্ত হন সাবেক এই মেয়র।