মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার বর্ণনা দিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী
ঝিনাইদহে সফরকালে হামলা, থানায় অবরুদ্ধ অবস্থা এবং প্রাণনাশের শঙ্কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। সোমবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছেন।
পোস্টে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, ঝিনাইদহ সফরের আগে কসবা, হাতিবান্ধা ও রাজশাহীতে তাঁর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার অভিযোগের বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং ঘটনাগুলোর প্রকৃত তথ্য জানাকে তিনি নিজের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজশাহীতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় সমাবেশেও তিনি অংশ নেন। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সরকারের প্রতি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, তারপর হাতিবান্ধা সফরে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে, যা কিছু “ভদ্রবেশী ব্যক্তির” প্রকৃত চেহারা প্রকাশ করেছে।
ঝিনাইদহ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুমার নামাজ আদায়, প্রয়াত আলেম ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-এর কবর জিয়ারত এবং আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে যান। সফরসঙ্গী ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী।
তিনি অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহ কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনকে লক্ষ্য করে প্রথমে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। পরে ধাক্কা, ঘুষি, ইট-পাটকেল ও হকিস্টিক দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তাঁর কয়েকজন সহযোদ্ধা আহত হন বলেও দাবি করেন তিনি। হামলার সময় ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপির নেতাকর্মী এবং পুলিশের উপস্থিতি ছিল। তিনি পুরো ঘটনাকে “পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র” হিসেবে আখ্যা দেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, পরে হামলার বিচারের দাবিতে থানায় গেলে মামলা নিতে গড়িমসি করা হয়। থানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, সার্ভার ডাউন এবং প্রভাবশালী এক ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ার চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় আট ঘণ্টা অপেক্ষার পর মামলা গ্রহণ করা হয়। তবে থানা থেকে বের হওয়ার সময় আবারও বিপুলসংখ্যক লোক থানার সামনে জড়ো হয়ে হামলার চেষ্টা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “Please save us” লিখে সহায়তা চান। এদিকে পোস্টে তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝিনাইদহে নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “আমরা যদি কখনো মারা যাই, আমাদের খুনের বিচারটা যেন করা হয়।” তবে তাঁর এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা অভিযুক্ত রাজনৈতিক পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।