আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে ভর্তি সহায়তার আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। “ভর্তি সহায়তা নীতিমালা ২০২৬” এর আওতায় মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
সম্প্রতি ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-অ্যাডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন গ্রহণ চলবে আগামী ১৪ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পাবেন ৪ হাজার টাকা, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ৬ হাজার টাকা এবং স্নাতক বা সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পাবেন ৮ হাজার টাকা করে ভর্তি সহায়তা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের প্রথমে নির্ধারিত সুপারিশপত্রের ফরম ডাউনলোড করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের অনুমোদন নিতে হবে। ফরমটি প্রিন্ট করে পূরণ করার পর প্রতিষ্ঠান প্রধানের সুপারিশ সংগ্রহ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পরিষ্কার ছবি বা স্ক্যান কপি প্রস্তুত করে অনলাইনে আপলোড করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়াটি পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন হবে। ধাপগুলো হলো অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন, মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন, পোর্টালে লগইন, আবেদন জমা এবং ড্যাশবোর্ড থেকে আবেদন স্ট্যাটাস পর্যবেক্ষণ।
আবেদনের সঙ্গে শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি, স্বাক্ষর, জন্মনিবন্ধন সনদ, অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র, আর্থিক অসচ্ছলতার সনদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। এছাড়া এতিম, প্রতিবন্ধী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বা বিশেষ ক্যাটাগরিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্রও জমা দিতে হবে।
যোগ্যতার শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি, একাদশ শ্রেণি বা আলিম প্রথম বর্ষ, অথবা স্নাতক প্রথম বর্ষ কিংবা সমমানের কোর্সে অধ্যয়নরত হতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকের বার্ষিক আয় তিন লাখ টাকার কম হতে হবে। এছাড়া এতিম, প্রতিবন্ধী, স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং ২০তম গ্রেডের সরকারি বা আধা-সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেও বিশেষ বিবেচনায় সহায়তা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আবেদন জমার শেষ সময়ের পর সাধারণত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে সহায়তার অর্থ পাঠানো হবে। নির্বাচিতদের এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। পুরো কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ায় কোনো ধরনের হার্ডকপি জমা দিতে হবে না।
সহায়তা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য অফিস চলাকালীন সময়ে ০২-৫৫০০০৪২৮, ০১৭৭৮৯৫৮৩৫৬ এবং ০১৭৭৮৯৬৪১৫৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানিয়েছে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ।