অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও প্রখ্যাত জননেতা এ কে ফজলুল হক-এর ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ পালিত হচ্ছে। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন বাংলার নিপীড়িত ও অবহেলিত কৃষকসমাজের অকৃত্রিম বন্ধু। তিনি সর্বপ্রথম উপলব্ধি করেছিলেন যে, অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি মূলত কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। দূরদর্শী নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে তিনি কৃষকদের স্বার্থকে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসেন। আরও বলা হয়, ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ফজলুল হক কৃষক ও শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা তৎকালীন শাসন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
শিক্ষার প্রসারেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও কর্ম- পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে বাংলার সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বর্তমান ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। কর্মজীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ ও অবদান তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।