দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম-এর সংক্রমণ। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু, বাড়ছে মৃত্যুও। চিকিৎসকদের মতে, বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা হাম আক্রান্ত হলে গুরুতর জটিলতায় পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৬৪ শিশুর। হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, যেসব শিশু আগে থেকেই অপুষ্টি, ডায়রিয়া বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভুগছে, তাদের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এসব শিশুর মধ্যে নিউমোনিয়া, চোখের সংক্রমণসহ নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন-বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’-থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি ও তীব্রতা বাড়ছে। তারা মনে করেন, পুষ্টিহীনতা কমাতে সামাজিক সহায়তা বাড়ানো গেলে হামের কারণে মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব।
হামের লক্ষণ ও ঝুঁকি
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
উচ্চ জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত)
সর্দি, কাশি
চোখ লাল হওয়া
সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি
মুখের ভেতরে সাদা দাগ (কপলিক স্পট)
অবহেলা করলে নিউমোনিয়া, কানে সংক্রমণ বা মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) পর্যন্ত হতে পারে।
হাম হলে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
প্রক্রিয়াজাত খাবার (চিপস, প্যাকেটজাত খাবার)
চর্বিযুক্ত ও ভাজা খাবার
অতিরিক্ত ঝাল খাবার
ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (চা, কফি)
এসব খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে এবং রোগের জটিলতা বাড়াতে পারে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন।
যেসব খাবার উপকারী
হালকা গরম স্যুপ (চিকেন/ডিমের সাদা অংশ দিয়ে)
ডাবের পানি, ফল ও ঘরে তৈরি ফলের জুস
গাজর, মিষ্টি কুমড়া
খিচুড়ি ও সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাবার
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এ সময় শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা রোধ এবং পর্যাপ্ত ক্যালোরি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
সতর্কতা
হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।