বিচার ব্যবস্থায় কেবল আইনের শাসন নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য-এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া জেলা আদালতে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
জামিন পাওয়ার পরও দাপ্তরিক জটিলতায় কারামুক্তিতে বিলম্ব হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালতের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে জামিননামা পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে অনেক ক্ষেত্রে মুক্তি বিলম্বিত হয়। এটি আইনের শাসনের আওতায় পড়লেও তা প্রকৃত ন্যায়বিচার কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে।তিনি বলেন, অতীতে আইনের প্রয়োগের আড়ালে অনেক সময় অবিচার হয়েছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি ন্যায়পরায়ণ বিচারকের ভূমিকা অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকের নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ‘ই-বেইলবন্ড’ বা ইলেকট্রনিক জামিননামা পদ্ধতি চালুর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আদালত থেকে দেওয়া জামিন আদেশ সরাসরি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাবে। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং মধ্যবর্তী দাপ্তরিক জটিলতা কমবে। বর্তমানে বগুড়ার পাশাপাশি ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়ায় এই কার্যক্রম চালু হয়েছে বলে জানান তিনি। এর ফলে বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং হয়রানি ও দুর্নীতির সুযোগ কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
বিচার বিভাগ আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থাকে পুলিশের ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস), আদালতের কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিচার প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় করার মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন।