দেশে দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকা ম্যালেরিয়া নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানির মধ্যেই ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনায় বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশের ১৩টি জেলায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন এবং মৃত্যু হয় ১৬ জনের। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬০ জন, মারা গেছেন একজন। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা গেছে বান্দরবানে, যেখানে মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক।
সম্প্রতি বান্দরবান ভ্রমণ শেষে ঢাকায় ফিরে কয়েকজন পর্যটকের শরীরে ম্যালেরিয়া শনাক্ত হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে রাজধানীর বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে রাজধানীর কিছু বেসরকারি হাসপাতালেও জ্বর নিয়ে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ম্যালেরিয়া ধরা পড়েছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত জরিপ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস মশা রাজধানীতেও পাওয়া গেলেও তা সংক্রমণ বহন করছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে স্থানীয় সংক্রমণ নাকি বাইরে থেকে এসেছে-এই প্রশ্নও রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে বনাঞ্চলনির্ভর জীবনযাপন, সীমান্তবর্তী চলাচল ও পর্যটন বৃদ্ধির কারণে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি শহরে ফিরে আসা রোগীদের মাধ্যমে সংক্রমণ বিস্তারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, একসময় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে নজরদারির ঘাটতি ও কার্যক্রমের স্থবিরতার কারণে সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত জরিপ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পার্বত্য এলাকায় বিশেষ নজরদারি জোরদার না করলে ম্যালেরিয়া পুনরায় বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। আগামী বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস সামনে রেখে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।