মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইরানের একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর এর জবাবে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ফলে চলমান যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে-ইরানের একটি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ অবরোধ ভেঙে দেশটির বন্দরগামী হওয়ার সময় সেটি আটক করা হয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানানো হয়। অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী এ ঘটনাকে ‘সশস্ত্র দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চলমান অবরোধ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কারণে নতুন করে শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় দফা আলোচনার উদ্যোগ ব্যাহত হওয়ায় স্থায়ী সমাধানের পথ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই নতুন আলোচনা শুরু করতে, তবে ইরানের অনাগ্রহে তা অনিশ্চয়তার মুখে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রেখেছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহের বড় অংশ এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে সম্ভাব্য আলোচনা সামনে রেখে ইসলামাবাদ-এ প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তা আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল সেখানে যাওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।
প্রায় আট সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা এবং পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো কঠিন হবে। ইউরোপীয় মিত্ররাও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, তড়িঘড়ি করে কোনো সমঝোতা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নাও হতে পারে।