দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।
এবার ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬ জন। বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ড-এ এবং সবচেয়ে কম সিলেট শিক্ষা বোর্ড-এ। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মানবিক বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগে রয়েছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ লাখ ২১ হাজার ১৮৪ জন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে শিক্ষা প্রশাসন। সব কেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রশ্নফাঁস রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্র এলাকায় ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ কেন্দ্র পরিদর্শনে শিক্ষামন্ত্রীর ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ থাকতে পারে বলেও জানা গেছে। একইসঙ্গে পরীক্ষার্থীদের জন্য ভীতিমুক্ত ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে শুরু হওয়া লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। এরপর ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।