“ভুয়া সাংবাদিকে ভরে যাচ্ছে দেশ, প্রকৃতদের তালিকা জরুরি”
দেশে ভুয়া ও অপসাংবাদিকতার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি, না হলে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) ফেনীতে সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিদ্দিক আল মামুন। এছাড়া বক্তব্য দেন ওবায়দুর রহমান শাহীন, আবু বকর, রফিকুল ইসলাম ও মামুন ফরাজীসহ অন্যরা।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের চোখ হিসেবে কাজ করে। এই চোখ সক্রিয় না থাকলে রাষ্ট্র ও সমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। তাই গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হচ্ছে সততা, নির্ভুলতা ও পক্ষপাতহীনতা। কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে এই মানদণ্ড বজায় থাকছে না। এতে গণমাধ্যম তার গণমুখী চরিত্র হারাচ্ছে।
অপসাংবাদিকতা ও তথাকথিত সাংবাদিকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ব্যাঙের ছাতার মতো পত্রিকা বের হচ্ছে, একই প্রেস থেকে নানা নামে প্রকাশিত হচ্ছে অসংখ্য পত্রিকা-এগুলো সাংবাদিকতার নামে প্রহসন।” এসব তথাকথিত সম্পাদকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কিছু সাংবাদিক ও সম্পাদক নৈতিক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ভূমিকা নিয়েছিলেন, যার ফলে গণমাধ্যমে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। “সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা করলে কখনো পালাতে হয় না, বরং সংকটে জনগণ পাশে থাকে”-যোগ করেন তিনি।
গণমাধ্যমের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে ‘তথ্য সন্ত্রাস’ ও হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান কাদের গনি চৌধুরী। এদিকে সভায় বক্তব্য দিয়ে ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেন, রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকার ও সমাজের গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে উন্নয়নের পথ সুগম করে গণমাধ্যম, এজন্য একে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ বলা হয়।