বর্তমান সরকারের চলমান মেয়াদকালেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে পারে-এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা।
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা বলেন, সরকারের পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এ লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব নয়। রোববার (২৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে বহুমাত্রিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেয়া এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন আসবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিরোধীদলের সমালোচনা করে বলেন, বিভিন্ন ইস্যুতে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর ন্যস্ত রয়েছে এবং সেই দায়িত্ব পালনে সব কার্যক্রম সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তার বক্তব্যে, প্রায় দুই দশক পর দেশে একটি কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক সংসদ গঠিত হয়েছে, যেখানে গণতান্ত্রিক চর্চার বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা ও ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এছাড়াও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, বিরোধীদল সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে দেওয়া কিছু বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার দাবি, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে শহীদের সংখ্যা নিয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সরকারি গেজেটের সঙ্গে মেলে না। এ প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকার জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়াতে চায় না। তিনি বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানান, এ বিষয়ে নতুন করে বিভ্রান্তিকর বর্ণনা বা বিতর্ক সৃষ্টি না করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় সদস্যরা সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এবং কিছু ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত অভিযোগ করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে সংসদ গঠিত হলেও সরকারের ভেতরে এখনো কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার লক্ষণ বিদ্যমান। তিনি এ বিষয়ে কার্যকর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা-১৬ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল বাতেন তার বক্তব্যে রাজধানীতে বসবাসরত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি টেকসই পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এর আগে, গত ১২ মার্চ মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ প্রদান করেন। পরবর্তীতে কার্য উপদেষ্টা কমিটি ওই ভাষণের ওপর বিস্তারিত আলোচনার জন্য মোট ৫০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করে। ধন্যবাদ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এবং তা সমর্থন করেন হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু।
আলোচনায় আরও অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা, যারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা, জাতীয় রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। পুরো আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং গণতান্ত্রিক চর্চার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।