ধূমপান যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর-এটি বহুল স্বীকৃত একটি বিষয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, এর প্রভাব নারীদের ক্ষেত্রে আরও গুরুতর রূপ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপানের কারণে নারীদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বসহ নানা জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ী নারীরা ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পুরুষদের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল। এমনকি অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ী নারীদের ক্ষেত্রে সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েকগুণ বেশি থাকে। অর্থাৎ একই মাত্রার ধূমপানেও নারীদের শরীরে এর নেতিবাচক প্রভাব তুলনামূলকভাবে তীব্রভাবে প্রকাশ পায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানা কারণে নারীদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে। আধুনিকতা বা ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ধূমপানকে দেখার প্রবণতা, মানসিক চাপ মোকাবিলার অজুহাত, বন্ধু বা সামাজিক পরিবেশের প্রভাব-এসবই এই অভ্যাস গড়ে ওঠার পেছনে ভূমিকা রাখছে। ধূমপানের ক্ষতি শুধু শ্বাসতন্ত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট করে শুষ্কতা তৈরি করে, দ্রুত বলিরেখা সৃষ্টি করে এবং অকাল বার্ধক্যের লক্ষণকে ত্বরান্বিত করে। একই সঙ্গে দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে মৌখিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়।
মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ধূমপানের প্রভাব উদ্বেগজনক। বিভিন্ন গবেষণায় ধূমপানের সঙ্গে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এটি হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে অস্টিওপোরোসিস-এর ঝুঁকি বাড়ায়, ফলে অল্প আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব পড়ে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যে। ধূমপান ডিম্বাণুর গুণগত মান কমিয়ে সন্তান ধারণের সক্ষমতা হ্রাস করে। এর ফলে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি গর্ভপাত, অকাল প্রসব এবং মৃত সন্তান জন্মের মতো জটিলতার সম্ভাবনাও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
স্বল্পমেয়াদে ধূমপানের ক্ষতি অনেক সময় স্পষ্টভাবে ধরা না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে স্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিজের স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ এবং মাতৃত্বের নিরাপত্তা বিবেচনায় ধূমপান পরিহার করা জরুরি। ধূমপানকে কোনোভাবেই আধুনিকতা বা ব্যক্তিত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা উচিত নয়; বরং এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন একটি মারাত্মক অভ্যাস।