দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর আকাশপথের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খান রিতা বলেছেন, উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে দেশের অন্যতম এভিয়েশন হাবে পরিণত করা হবে।
বৃহস্পতিবার বগুড়া এয়ারফিল্ড পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল কৃষি, শিল্প ও পর্যটনে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ হলে বিনিয়োগ, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মীর শাহে আলম, হাসান মাহমুদ খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের অংশ হিসেবে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের প্রথম সামরিক বিমান ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া বিমানবন্দরে বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পাইলট একাডেমি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এতে সামরিক ও বেসামরিক—উভয় ক্ষেত্রেই তরুণদের পাইলট হওয়ার সুযোগ বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ হাজার ৫০০ ফুটে উন্নীত করা হবে। ভবিষ্যতে এই বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ ও সামরিক উড়োজাহাজ চলাচল করবে। এতে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।
রানওয়ে সম্প্রসারণে যেসব স্থাপনা বাধা সৃষ্টি করবে সেগুলো অধিগ্রহণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের তিনগুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি যেমন ত্বরান্বিত হবে, তেমনি আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী হবে।