আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের জন্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। একই সঙ্গে দেশের জন্য বার্ষিক ঋণসহায়তার পরিমাণও প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককালে এ তথ্য তুলে ধরেন এডিবির সভাপতি মাসাতো কান্দা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভাপতির সফর উপলক্ষে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।
মাসাতো কান্দা বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। অর্জিত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রেখে নতুন প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি এবং আরও সহনশীল ও বহুমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন কর্মসূচির অধীনে আগামী পাঁচ বছরে এই অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার করে সহায়তা দেওয়া হবে। এটি এডিবির বিদ্যমান বর্ধিত ঋণ কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বর্তমানে বাংলাদেশে সংস্থাটির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার, যা মধ্যমেয়াদে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এডিবি আরও জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগভিত্তিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি তেল, এলএনজি, সার ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।
পাশাপাশি বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য আরও ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে এডিবি।