আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। চামড়াশিল্পকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে রক্ষা করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কুরবানির চামড়ার দরপতন, অব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের অভাবে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ায় সরকার এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। চামড়া যাতে নষ্ট না হয় এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়, সেজন্য মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে চামড়া ব্যবস্থাপনায় কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে চামড়াশিল্পকে রক্ষা করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অতীতে কাঁচা চামড়া অল্প দামে বিক্রি হওয়া এবং অবহেলায় নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এবার যেন একটি চামড়াও নষ্ট না হয়, সে জন্য স্থানীয় পর্যায়ে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি কসাই, মৌসুমি ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা ও এতিমখানার সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। চামড়ার মান রক্ষায় সময়মতো সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চামড়াশিল্প সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, পশু জবাইয়ের তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে পর্যাপ্ত লবণ ব্যবহার না করলে চামড়ায় পচন ধরে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর মূল্য কমে যায়।
সরকার এবার সীমান্ত এলাকায় চামড়া পাচার ঠেকাতেও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। ঈদের পর কয়েকদিন চামড়াবাহী যানবাহনের ওপর বিশেষ নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে। জানা গেছে, ২০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ মূলত লবণ ক্রয় ও বিতরণ, প্রচার কার্যক্রম, মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ, অস্থায়ী সংরক্ষণাগার এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করা হবে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে সংগৃহীত চামড়া সংরক্ষণেও এবার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে চামড়ার অপচয় কমবে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। তবে পরিবহন সংকট, ট্যানারি মালিকদের বকেয়া পরিশোধ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। সরকার জানিয়েছে, এসব বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে এবং ট্যানারি মালিকদের সময়মতো চামড়া ক্রয় ও মূল্য পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে।