প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী Ariful Haque Chowdhury-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত Dr. Abdullah Jafar H. bin Abiya। সোমবার (২৭ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের শ্রমবাজার, অভিবাসন ব্যয় ও প্রবাসীদের কল্যাণসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর পক্ষ থেকে সৌদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর প্রস্তাব তুলে ধরেন। দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ৭৩টি পেশায় চালু থাকা দক্ষতা যাচাইকরণ কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং যৌথ তদারকির বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় মন্ত্রী দক্ষ কর্মীদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ বা ‘কোয়ালিফাইড ট্যালেন্ট ব্যাংক’ গঠনের প্রস্তাব দেন, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুততর করবে। তিনি জনশক্তি রপ্তানিতে অনিয়ম ও হয়রানির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও তুলে ধরেন এবং সৌদি আরবে দক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি হোয়াইট-কলার চাকরিতে বাংলাদেশিদের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ আকামা ফি কমানোর বিষয়ে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং মৃত্যুর ঘটনায় মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাকি বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে নতুন চুক্তিতে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি। আকামা ফি নিয়োগকর্তার বহন করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কর্মীদের ওপর চাপানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি আরও জানান, সৌদি আরবে নিবন্ধিত প্রায় ৯৯০টি এজেন্সির মধ্যে যারা নিয়ম মানছে না, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। কর্মীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য যৌথভাবে একটি বিশেষ অ্যাপ চালুর প্রস্তাবও দেন তিনি। শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বর্তমানে ২৫০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে দেওয়া স্কলারশিপ ভবিষ্যতে ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান। বৈঠকের শেষে মন্ত্রী সৌদি রাষ্ট্রদূতকে সিলেট সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং সৌদি আরব থেকে সিলেট পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সৌদি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।