ক্যানসার প্রতিরোধে কোনো পানীয় একা ম্যাজিকের মতো কাজ করে না। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা এবং সচেতন জীবনযাপনের সঙ্গে কিছু প্রাকৃতিক পানীয় শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরাও ক্যানসার ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর ও উদ্ভিদভিত্তিক খাবার, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।
১. লেবু-গরম পানি লেবুতে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে সহায়তা করে। সকালে কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে হজমে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি ক্যানসারের চিকিৎসা বা নিশ্চিত প্রতিরোধ নয়।
২. গ্রিন টি গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। গবেষণায় গ্রিন টির কিছু উপাদান ক্যানসার প্রতিরোধে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হলেও, এটি নিশ্চিত প্রতিরোধক নয়। নিয়মিত পরিমিত গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের অংশ হতে পারে।
৩. হলুদ মিশ্রিত পানি হলুদের কারকিউমিন প্রদাহনাশক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের National Cancer Institute জানিয়েছে, কারকিউমিন ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় কার্যকর কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই। তাই এটি ওষুধের বিকল্প নয়।
৪. আদা পানি আদায় জিঞ্জারলসহ কিছু উপকারী উপাদান থাকে, যা হজমে সহায়তা করতে পারে এবং প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ক্যানসার প্রতিরোধের নিশ্চিত উপায় হিসেবে আদা পানির দাবি করা ঠিক নয়।
সতর্কতা
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ফলমূল-শাকসবজি ও পূর্ণশস্য খাওয়া, ধূমপান না করা এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা। World Cancer Research Fund বলছে, ক্যানসার প্রতিরোধে অ্যালকোহল না খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।