চাঁদাবাজ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণেই বাজারে অস্থিরতা জামায়াত আমির
রাজধানীর মিরপুরের পাইকারি কাঁচাবাজারে দোকান দখল, নীরব চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণেই বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার পাইকারি কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাজারে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের ঘটনা থাকলেও অনেক ব্যবসায়ী মুখ খুলতে ভয় পান। তাদের মুখ চেপে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চাঁদাবাজরা বাইরে থেকে আসে না, তাদের পরিচয় সবারই জানা। তিনি দাবি করেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করতে হবে। সংসদের ৩০০ সদস্য যদি চায় দেশে চাঁদাবাজি থাকবে না, তাহলে কেউ সাহস পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট ও চাঁদাবাজির কারণে বাজার পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্তরে সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারছেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কারণে কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না, আবার ভোক্তারাও বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হন। মাঝখানে অতিরিক্ত অর্থ চলে যায় অসাধু চক্রের হাতে।
বাজার পরিদর্শনের সময় এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত কম ভাড়ার দোকান রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বরাদ্দ নেওয়ার পর সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে কয়েক গুণ বেশি দামে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। পণ্যের দামে চাঁদাবাজির প্রভাব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, কোনো পণ্যের প্রকৃত দাম ১০ টাকা হলেও অতিরিক্ত চাঁদার কারণে সেটি ১২ বা ১৩ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এর পুরো চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ছে। তিনি ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি কাটিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির তথ্য প্রকাশের কারণে কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতির শিকার হলে তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ ও বাজারের বাস্তব চিত্র নিয়মিত গণমাধ্যমে তুলে ধরলে সামাজিক সচেতনতা বাড়বে এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।