চীন সফরে গিয়ে বেইজিংয়ের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য তুলে ধরেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এ সময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের উত্থাপিত বিষয়গুলোতে চীন ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তেহরানের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রথম লক্ষ্য ছিল নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং চীনকে বোঝানো যে তেহরান যুদ্ধ পরিস্থিতির একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোতে চায়।
আব্বাস আরাগচি জানান, ইরান এমন একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, যা দেশটির সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ন্যায্য ও বিস্তৃত চুক্তির পথ তৈরি করবে।
দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল বেইজিং ও তেহরানের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করা। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফর ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
ইরান চেয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে চীন যেন এমন কোনো সমঝোতায় না যায়, যা তেহরানের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও চীন যেন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইরানকে সমর্থন দিয়ে যায়—সে বিষয়েও আশ্বাস চেয়েছিল তেহরান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা পেয়েছে ইরান।
তৃতীয় আলোচ্য বিষয় ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনা।
উভয় পক্ষই একমত হয়েছে যে, পারস্য উপসাগর ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন শান্তি ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা