রাজধানীজুড়ে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এবং অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান আরও জোরদার করেছে Dhaka Metropolitan Police (ডিএমপি)।
রোববার (৩ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার (বিপিএম-সেবা) বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ মে থেকে সমন্বিত এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও অনলাইন জুয়ার অভিযোগ বাড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই-অপরাধচক্রের মূল উৎপাটন এবং ঢাকাকে নিরাপদ নগরীতে পরিণত করা।” এ লক্ষ্যে অপরাধপ্রবণ এলাকায় ব্লক রেইড, গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক যাচাই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ডিএমপি জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত ও ৯৪ জন তালিকার বাইরে থাকা চাঁদাবাজকে আটক করা হয়েছে। এ সময় চাঁদা আদায়ের খাতা, লেনদেনের তথ্য ও ভিডিওসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং একাধিক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদেরও আটক করা হয়েছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল, ল্যাপটপ ও সার্ভারসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
নিরাপত্তা জোরদারে বসিলা ও কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। বাজার, টার্মিনাল ও জনবহুল স্থানে টহল বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ মনিটরিং সেল কাজ করছে।
আগামীতে অপরাধপ্রবণ এলাকায় নতুন ক্যাম্প স্থাপন, সিসিটিভি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারের পরিকল্পনার কথাও জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার।
তিনি বলেন, অপরাধ দমন শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়-এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অপরাধসংক্রান্ত তথ্য নিকটস্থ থানায় জানাতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ডিএমপি জানিয়েছে, “অপরাধী যে-ই হোক, তার কোনো ছাড় নেই”-এই নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।