মমতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী থেকে বিজেপির মুখ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের নাটকীয় পালাবদলের কেন্দ্রে থাকা শুভেন্দু অধিকারী এবার রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে শপথ নেবেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র।
শুক্রবার বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। পরে তিনি রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান ছিল ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা দীর্ঘ এক যাত্রা। একসময় তিনি ছিলেন মমতা ব্যানার্জী-র ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম সংগঠক। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই সম্পর্ক রূপ নেয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
বিশেষ করে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তৃণমূলের সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আলোচনায় আসেন শুভেন্দু অধিকারী। জমি অধিগ্রহণবিরোধী সেই আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছিল বলে মনে করেন অনেকে। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে সংসদ সদস্য ও রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তবে দলীয় অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের জেরে ধীরে ধীরে মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে।
২০২০ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং এরপর থেকেই তৃণমূল সরকারের অন্যতম কড়া সমালোচক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জীকে পরাজিত করে জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। এবারের নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীকেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথিতে। তার বাবা শিশির অধিকারী দীর্ঘদিন কংগ্রেস ও পরে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাবার পথ ধরেই ছাত্ররাজনীতি থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন শুভেন্দু। বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি সংক্রান্ত বিতর্কেও তার নাম উঠে এসেছে। বিশেষ করে নারদা স্টিং অপারেশনের ঘটনায় তাকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের সংগঠক থেকে বিজেপির মুখ হয়ে ওঠা এবং শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে পৌঁছানো—শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবন ভারতের সাম্প্রতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে থাকবে।