পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, আসছে নতুন অধ্যায় ও বিষয়বস্তু
আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিমার্জন আনতে যাচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন পরিবর্তনের অংশ হিসেবে চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণির ইতিহাস ও বাংলাদেশ-ও-বিশ্বপরিচয় বইয়ে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র ভূমিকা নিয়ে নতুন অধ্যায় সংযোজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এছাড়া খেলাধুলা, সংস্কৃতি, মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা গুরুত্ব পাচ্ছে নতুন পরিমার্জনায়। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই পর্যালোচনা ও সংশোধনের লক্ষ্যে গত ৪ থেকে ৭ মে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতিহাসভিত্তিক বইগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ, গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে বিভিন্ন জাতীয় নেতার অবদান নতুনভাবে উপস্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৭ নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের পটভূমি, মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং নব্বইয়ের গণআন্দোলনে খালেদা জিয়ার অবদান পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতিহাসের বয়ানকে আরও তথ্যনির্ভর ও ভারসাম্যপূর্ণ করার লক্ষ্যেই এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে গুরুত্ব
নতুন পরিকল্পনায় চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা বই অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা ও কারাতের মতো বিষয় থাকবে। এসব বিষয়ের মূল্যায়নও ব্যবহারিক কার্যক্রমের ভিত্তিতে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কিত বিষয়ও বইয়ে স্থান পাবে।
যুক্ত হচ্ছে নতুন বই
চতুর্থ শ্রেণিতে ‘শারীরিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য’ নামে নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ জয়’ এবং ‘কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা’ নামে দুটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ‘লার্নিং উইথ জয়’ বইটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে এবং ব্যবহারিক মূল্যায়নের আওতায় থাকবে।
আইসিটি বইয়ে এআই ও সাইবার নিরাপত্তা
বর্তমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইগুলোকে সময়োপযোগী করতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সংস্করণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যারসহ আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া বাংলা, বিজ্ঞান, পৌরনীতি ও নাগরিকতাসহ বিভিন্ন বইয়ে ভাষা, বানান, তথ্য ও উপস্থাপনায় পরিমার্জন আনা হবে। বইয়ের প্রচ্ছদ, মানচিত্র, ছবি ও অলংকরণেও নান্দনিকতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এস এম হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিদ্যমান বইয়ের মূল কাঠামো বহাল রেখেই তথ্যগত ও ভাষাগত সংশোধন করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নির্ভুল ও মানসম্মত পাঠ্যবই পায়। অন্যদিকে এ কে এম মাসুদুল হক বলেন, সরকারের নীতিগত পরিকল্পনার আলোকে বইগুলো যুগোপযোগী করার কাজ চলছে এবং জুনের মধ্যেই পরিমার্জনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।