পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন,
“শপথ ভোরের, এবং শপথ দশটি রাতের।”
— (সূরা ফজর: ১-২) তাফসিরবিদদের মতে, এই “দশ রাত” হলো জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন—যে দিনগুলোকে ইসলামে বছরের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ সময়গুলোর একটি বলা হয়।
এই দিনগুলোর প্রতিটি মুহূর্ত জড়িয়ে আছে হযরত ইব্রাহিম (আ.), হাজেরা (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর অবিস্মরণীয় ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের ইতিহাসের সঙ্গে। আল্লাহর আদেশে নিজের প্রিয় সন্তানকে কুরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন ইব্রাহিম (আ.)। আর মরুভূমিতে সন্তানের জন্য পানির সন্ধানে হাজেরা (আ.)-এর সাফা-মারওয়ার দৌড় আজও হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম ১০ দিনের নেক আমলের চেয়ে প্রিয় আর কোনো সময় নেই। তাই এই দিনগুলোতে বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, তওবা, দান-সদকা এবং তাকবির, তাহলিল ও তাহমিদ পাঠ করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে ৯ জিলহজের আরাফাতের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে এসেছে, এই রোজা বিগত ও আগামীর এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে।
ইসলামে কুরবানি শুধু পশু জবাই নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় জিনিস ত্যাগ করার শিক্ষা। জিলহজের এই বরকতময় দিনগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আল্লাহর পথে ত্যাগ কখনো বৃথা যায় না।
আসুন, আমরা এই পবিত্র দিনগুলো ইবাদত, তওবা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে অতিবাহিত করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।