সুন্দরবনে জলদস্যুদের হানা, ১২ জেলেসহ ট্রলার অপহরণ
বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন সংলগ্ন কটকা এলাকায় মাছ ধরার সময় ১২ জেলেসহ একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ট্রলার অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। জলদস্যুদের এ হামলার ঘটনায় উপকূলীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহৃত জেলেদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তাদের পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। তবে কোন জলদস্যু বাহিনী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন ট্রলার মালিক মো. মাসুম, মো. ইব্রাহিম (৩৮), ইয়াসিন (২৪), মো. হোসেন, তাওহীদ (২২), মো. সেলিম, মো. ইয়াসিন (১৮), মো. জাকির মুন্সি (৫৫), মো. হানিফা (৩৫), হৃদয় (২৪) ও সুমন (৩০)। আরও একজন জেলের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের সবার বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ট্রলার মালিক সমিতি জানায়, কয়েক দিন আগে রুহিতা এলাকা থেকে তিনটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ট্রলার গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। মঙ্গলবার রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন কটকা এলাকায় একদল সশস্ত্র জলদস্যু ট্রলারগুলোতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা জেলেদের জিম্মি করে একটি ট্রলার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ১২ জেলেসহ গভীর বনের দিকে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে অপহৃতদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনদের নিরাপদে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে জেলেদের উদ্ধারের আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। জেলেদের উদ্ধারে মংলা ও পাথরঘাটা কোস্ট গার্ড যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।