রাজধানীর পশুর হাটের ইজারায় বিএনপি-জামায়াতপন্থিদের প্রাধান্য
রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটের ইজারায় এবার বিএনপি ও জামায়াতপন্থি ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কারণে দরপত্রে অংশ নিতে না পারার দাবি করে এবার তারা বিভিন্ন হাটের ইজারা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দুই সিটি করপোরেশন প্রশাসনের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমেই সর্বোচ্চ দরদাতাদের ইজারা দেওয়া হয়েছে।
এবার রাজধানীর সবচেয়ে আলোচিত পশুর হাট হয়ে উঠেছে দিয়াবাড়ি হাট। পাঁচ দিনের জন্য ১৪ কোটি টাকায় হাটটির ইজারা পেয়েছেন মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ। ইতোমধ্যে সেখানে কোরবানির পশু আসা শুরু হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি স্থায়ী ও ১৪টি অস্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে ১০টির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি চারটির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি স্থায়ী ও ১০টি অস্থায়ী হাটের বেশিরভাগের ইজারা বিএনপি ও জামায়াতপন্থি ব্যবসায়ীদের হাতে গেছে বলে জানা গেছে।
ইজারাদারদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তারা এলাকায় অবস্থান করতে পারেননি এবং বিভিন্ন সময় মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। ফলে এতদিন দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগও ছিল না। এবার তারা সমন্বিতভাবে হাট পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান।
উত্তরের হাটগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর উঠেছে বেরাইদ বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গার হাটে। এর ইজারা পেয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ আতাউর রহমান। এছাড়া তেজগাঁও হাটের ইজারা পেয়েছেন মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম।
ইজারাদাররা বলছেন, এবার হাটে নিরাপত্তা ও সেবার মান বাড়ানো হয়েছে। ব্যাংকিং সুবিধা, সিসিটিভি নজরদারি ও বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে লেনদেন করতে পারেন।
অন্যদিকে দক্ষিণ সিটির সবচেয়ে বেশি দর উঠেছে কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী পানির পাম্প এলাকার হাটে। এর সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছেন জামায়াতপন্থি ব্যবসায়ী শামীম খান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর পাওয়া শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন হাটের ইজারাদার নাফিজ কবির, যিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। এছাড়া পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকার হাটের ইজারা পেয়েছেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির শ্যামপুর থানা কমিটির সদস্য সচিব কাজী মাহবুব মওলা হিমেল।
তবে দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা বলছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তাদের ভাষ্য, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে যারা সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন, তাদেরই ইজারা দেওয়া হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, বৈধ কাগজপত্র ও শর্ত পূরণ করে সর্বোচ্চ দরদাতারাই হাট পেয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম জানান, তিন ধাপে উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় দরপত্র সম্পন্ন করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের প্রভাব অনুভূত হয়নি।
এবার রাজধানীতে মোট ২৬টি অস্থায়ী পশুর হাট ছাড়াও উত্তর সিটির গাবতলী স্থায়ী হাট এবং দক্ষিণ সিটির সারুলিয়া স্থায়ী হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা হবে।