যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা
ওয়াশিংটন/দোহা, ২৬ মে: যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও উপসাগরে মাইন পেতে থাকা নৌযান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের চুক্তি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
একই সময়ে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার নতুন দফায় অংশ নিতে কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচকরা। তবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলও সামরিক অভিযান জোরদার করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, “ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষায় আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়েছে।” তবে হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। শুধু জানানো হয়, লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও সমুদ্রে মাইন স্থাপনের চেষ্টা চালানো নৌযান ছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার গভীর রাতে বন্দর আব্বাসের আশপাশে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে তারা দাবি করেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে দুর্বল করে দিতে পারে। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দেয়। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম পাঁচ শতাংশের বেশি কমলেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কিছুটা বেড়েছে।
এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহকে “সম্পূর্ণভাবে দমন” করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি লেবাননে সামরিক অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন। ইরান স্পষ্ট করে বলেছে, সম্ভাব্য যেকোনো শান্তিচুক্তির আওতায় লেবাননের সংঘাতকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
অন্যদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে অথবা আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে তা ধ্বংস করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক, জর্ডান ও বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তবে উপসাগরীয় অনেক দেশই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক আনা জ্যাকবস বলেন, “ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আরব দেশগুলো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী হবে না।” মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দ্রুত সমঝোতার আশা প্রকাশ করলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও তাৎক্ষণিক চুক্তির সম্ভাবনা এখনো নিশ্চিত নয়।
তিনি বলেন, “বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনই চূড়ান্ত চুক্তি সই হতে যাচ্ছে-এমন দাবি করা যাবে না।”
এদিকে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি কার্যকর হবে না। যদিও ইরান বলছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে হবে।