নতুন ভিসা ব্যবস্থা‘আমেরিকা ফার্স্ট’ চালুর ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে নতুন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ভিসা শিডিউলিং ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চার দিনের ভারত সফরের সময় এই নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিসা প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও অগ্রাধিকারভিত্তিতে সম্পন্ন করা।
এ সুবিধার আওতায় বিশেষভাবে উপকৃত হবেন ভারতীয় ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী বিভিন্ন কোম্পানির কর্মকর্তারা।
মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক এখন কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তিনি জানান, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যৌথ সামরিক মহড়া ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তাপূর্ণ ভিসা প্রক্রিয়া অনেক সময় ব্যবসায়িক সফর, বিনিয়োগ আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বে বাধা সৃষ্টি করে। নতুন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ব্যবস্থা সেই জটিলতা দূর করবে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন প্রশাসন।
নতুন পদ্ধতিতে আবেদনকারীদের গুরুত্ব, সফরের উদ্দেশ্য এবং অর্থনৈতিক অবদানের ভিত্তিতে দ্রুত সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ, যারা যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ, বাণিজ্যিক চুক্তি, প্রযুক্তি সহযোগিতা বা কৌশলগত অংশীদারত্বে ভূমিকা রাখবেন, তারা তুলনামূলকভাবে দ্রুত ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা কেবল আবেদনকারীদের জন্যই নয়, বরং দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কার্যক্রমকেও আরও দক্ষ ও দ্রুত করবে। এতে কম সময়ে আরও কার্যকরভাবে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
তার ভাষায়, “এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় সাশ্রয় করবে এবং আমাদের ভিসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করে তুলবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ভারতকে আরও ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত করতে চায়। একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় সহযোগী জোটকে শক্তিশালী করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং বিনিয়োগ খাতে ভারতীয় অংশীদারত্ব বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন।