বিশ্বকাপে ইতিহাস বদলের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে চান নিগার সুলতানা
আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের পেস সহায়ক কন্ডিশনকে কাজে লাগিয়ে এবারের আসরে নিজেদের পারফরম্যান্সের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চায় বাংলাদেশ দল। আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে টাইগ্রেসরা। এর আগে রোববার (২৪ মে) শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম–এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি, প্রত্যাশা এবং নিজের ফিটনেস নিয়ে কথা বলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ২৫টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ মাত্র তিনটি জয় পেয়েছে। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় জয়শূন্য ছিল দলটি। সবশেষ ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে আবারও জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ।
এই পরিসংখ্যানকে চাপ হিসেবে না দেখে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন নিগার সুলতানা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিশ্বকাপে জয়হীন সময় পার করেছি। তবে আমি এটাকে চাপ হিসেবে দেখছি না। বরং ইতিহাস বদলের সুযোগ হিসেবেই নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, গত বিশ্বকাপে দুবাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় দলকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। যদিও টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে সফলতা আসেনি, তারপরও আগের তুলনায় দলের সমন্বয় এখন আরও ভালো বলে মনে করছেন তিনি।
অধিনায়কের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দলে একাধিক ক্রিকেটার দায়িত্ব নিতে শুরু করেছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দিক। বিশ্বমঞ্চে আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং বেশি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই দল এগোচ্ছে বলে জানান তিনি। দলে মাত্র দুইজন মূল পেসার থাকা নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন নিগার। তার মতে, মারুফা আক্তার ও ফারিহা ইসলাম ছাড়াও পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে রিতু মনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে একই কম্বিনেশন নিয়ে দল খেলছে। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে প্রস্তুত ও ম্যাচ-ফিট ক্রিকেটারদের ওপরই আস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে মারুফা ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় নিজের ফিটনেস নিয়েও কথা বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দীর্ঘদিন ধরেই তার ইনজুরি নিয়ে আলোচনা থাকলেও তিনি দাবি করেন, বর্তমানে পুরোপুরি ফিট আছেন এবং বিশ্বকাপে খেলার জন্য প্রস্তুত।
নিগার সুলতানা জানান, ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পরও তিনি দীর্ঘদিন ধরে খেলছেন। তবে বিষয়টি তার মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে না। তিনি বলেন, প্রতিটি ক্রিকেটারেরই ছোটখাটো শারীরিক সমস্যা থাকে এবং সেগুলো সামলে খেলাটাই পেশাদার ক্রিকেটের অংশ। বিশ্বকাপ মিশনে অংশ নিতে সোমবার (২৫ মে) দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আগামী ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে টাইগ্রেসরা। এরপর গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।