কারামুক্ত হলেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শওকত মাহমুদ কারামুক্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ থেকে মুক্তি লাভ করেন।
তার মুক্তির খবরে পরিবার, সহকর্মী, সাংবাদিক সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তি ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর তাকে মুক্ত পরিবেশে ফিরে পাওয়ায় শুভানুধ্যায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
দেশের সাংবাদিকতা জগতে শওকত মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বে থাকাকালে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে তার দৃঢ় অবস্থান সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। সাংবাদিক মহলে তিনি নীতিনিষ্ঠ, স্পষ্টভাষী ও অভিজ্ঞ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক জীবনেও জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানে অবিচল ছিলেন বলে মনে করেন তার সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠজনরা।
দীর্ঘদিন ধরে শওকত মাহমুদ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, সিওপিডি (COPD) ও শ্বাসকষ্টসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। ২০০৪ সালে তার হৃদযন্ত্রে ছয়টি বাইপাস সার্জারি করা হয়। পরে ২০১৩ ও ২০২২ সালে আরও কয়েকটি স্টেন্ট প্রতিস্থাপন করতে হয়েছে। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর গ্রেপ্তারের পর কারাবন্দি অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এ সময় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
পরিবারের সদস্যরা শওকত মাহমুদের মুক্তিতে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেছেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, তার বড় মেয়ে মেহেত মামুন বাবার জামিন, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। এদিকে তার মুক্তির খবরে সহকর্মী সাংবাদিক, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রবীণ এই সাংবাদিক নেতার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।
সাংবাদিক সমাজের একাংশ মনে করছে, বয়স ও শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শওকত মাহমুদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখানো প্রয়োজন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, তিনি যেন ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পান। শওকত মাহমুদের মুক্তির খবরে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। পরিবার, সহকর্মী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আশা করছেন, উন্নত চিকিৎসা ও সবার দোয়ায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।