দেশে খুন-অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে, উদ্বেগ বিসিআরএসের
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিভিল রাইটস সোসাইটি (বিসিআরএস)। সংগঠনটির দাবি, চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসে খুন, অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই এবং নারী-শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
রোববার (৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিসিআরএসের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে বিভিন্ন অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেশ কিছু উদ্বেগজনক দিক সামনে এসেছে।
সংগঠনটির প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ১৪২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ৩৪৭টি অপহরণ, ১৮৪টি ছিনতাই এবং ৫৯১টি ডাকাতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ৫ হাজার ৯৯৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত অন্তত ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিসিআরএস বলছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদককেন্দ্রিক অপরাধ, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে। সংগঠনটির মতে, শুধু শহরাঞ্চল নয়, গ্রামীণ এলাকাতেও অপরাধের বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় দৈনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে। অনেক ঘটনা বিভিন্ন কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও মনে করছে সংগঠনটি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিসিআরএস। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় কথিত পুশইন সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার খবরকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের বিষয় সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। তাই দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং নারী-শিশু সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে অপহরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিসিআরএসের নেতারা বলেন, নাগরিকদের জানমাল রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। নিরাপদ, মানবিক এবং আইনের শাসনভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছে বিসিআরএস।