পুরস্কার ও জবাবদিহিতার নীতিতে পুলিশ বাহিনীকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে বিশ্বাস করে। এ নীতির আলোকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নৈতিক মনোবল বৃদ্ধি করে তাদের আরও সেবামুখী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তিনটি আলোচিত ঘটনায় কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনটি ঘটনায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে সনদ ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি নৌ পুলিশের তিন সদস্যকে আইজি ব্যাজ প্রদান করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের দায়িত্ব পালনে আরও অনুপ্রাণিত করতে মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষভাবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে সহায়তা করবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জনে আগের তুলনায় বেশি সক্ষম হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার কমেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নিজস্ব ব্যবস্থায় মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে এবং নিয়মিতভাবে অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। তদন্ত কার্যক্রমের ব্যয় প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাজেট কাঠামোর মধ্যে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ভবিষ্যতে তদন্ত, পোস্টমর্টেম ও টহল কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পলাতক ও শৃঙ্খলাভঙ্গকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিন পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীদের জীবনরক্ষায় ভূমিকা রাখা নৌ পুলিশের সদস্যরা এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আলোচিত কিশোরী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনকারী কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।