তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাই দেশকে এগিয়ে নেবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও দক্ষতাই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম চালিকাশক্তি বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের চাকরির পেছনে ছোটা নয়, বরং উদ্যোক্তা হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে দিনাজপুর সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা (ডিজেএডি) আয়োজিত ‘ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসা এবং সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের কর্মজীবন সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের প্রায় ৬৫০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তি দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে। শুধু স্থানীয় পর্যায় নয়, জাতীয় উন্নয়নেও তরুণদের দক্ষতা ও নতুন ধারণা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।
তিনি বলেন, সফল ক্যারিয়ার গঠনের জন্য প্রথমে একজন ভালো মানুষ হতে হবে। নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা পরিবার থেকেই অর্জন করতে হয়। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনও সমানভাবে প্রয়োজনীয়।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সফল হতে অসাধারণ মেধাবী হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধৈর্য, অঙ্গীকার এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে পারেন। কেবল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই যথেষ্ট নয়; দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে মুখস্থনির্ভর শিক্ষা দিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর, কর্মমুখী ও বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। সময়ানুবর্তিতা, সৃজনশীলতা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণদের বিভিন্ন কারিগরি ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি হলে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে কোনো নাগরিক যেন শিক্ষা বা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করছে। সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, মফস্বল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের মেন্টরশিপ ও ক্যারিয়ারভিত্তিক কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে দিনাজপুর অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু চাকরি খোঁজার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। দেশের উন্নয়নে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ডিজেএডির সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন চিস্তির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারা প্রযুক্তি দক্ষতা, ভাষা শিক্ষা, বিসিএস প্রস্তুতি এবং স্টার্টআপ খাতের সম্ভাবনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন।
এ সময় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন, নিউরোসাইন্স হাসপাতালের সার্জন ডা. মাহফুজ, ব্যবসায়ী সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন, অ্যাডভোকেট দুর্বারসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সমিতির সদস্য সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।