দফায় দফায় সংঘর্ষ, নিরাপত্তায় নতুন সিদ্ধান্ত বেরোবি বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনার পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগত, অতিথি-দর্শনার্থী এবং সব ধরনের যানবাহনের প্রবেশ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অতিথি, দর্শনার্থী, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, প্রাইভেটকারসহ সব ধরনের যানবাহনের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা এ ঘটনায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং লাঠিসোঁটা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ছাত্রশিবির আয়োজিত একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার সময় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের উপস্থিতির অভিযোগও উঠে আসে। সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে দুই সংগঠন। ছাত্রশিবিরের দাবি, প্রদর্শনীতে থাকা কিছু ছবি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। অন্যদিকে ছাত্রদলের অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয় এবং বহিরাগতদেরও সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে শনাক্ত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনা তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকত আলী বলেন, ক্যাম্পাসে যেন আর কোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।