‘ক্ষমতাবানরাই ইতিহাস লেখে’-ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম
গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণ দিবসে ইতিহাস রচনা, রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং আদর্শিক বিভাজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন মাহফুজ আলম। বুধবার (৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইতিহাসকে ‘মাছের পুকুর কিংবা বাজারের’ সঙ্গে তুলনা করে ক্ষমতার রাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পোস্টের শুরুতে তিনি লেখেন, মুক্তির দিনের আবহে এমন আলোচনা অনেকের কাছে বেমানান মনে হতে পারে। তবে ইতিহাসের বাস্তবতা তুলে ধরতেই তিনি নিজের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করছেন। মাহফুজ আলমের ভাষ্য, ইতিহাসে শক্তিশালীর আধিপত্যই শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি ‘মাৎস্যন্যায়’-এর উদাহরণ টেনে বলেন, বড় শক্তি ছোট শক্তিকে গ্রাস করে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে যায়।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, কোনো আদর্শিক গোষ্ঠীর বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার প্রবণতা দেখা যায়। আবার সেই গোষ্ঠীর সঙ্গে অবস্থান মিলিয়ে চললে সহজেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে জায়গা পাওয়া সম্ভব হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ ইতিহাসচর্চা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাহফুজ আলম। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তি একটি দলের প্রতিষ্ঠা বা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও পরবর্তীতে দল থেকে দূরে সরে গেলে ইতিহাসের বর্ণনায় তার অবদান উপেক্ষিত হতে পারে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে দায় চাপানোর প্রয়োজনেই শুধু তার নাম উল্লেখ করা হয়।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ক্ষমতা যার হাতে থাকে, ইতিহাস লেখার নিয়ন্ত্রণও শেষ পর্যন্ত তার হাতেই থাকে। আর সে কারণেই রাজনৈতিক ও আদর্শিক গোষ্ঠীগুলো ইতিহাসের বয়ান নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ্রহী হয় এবং নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ব্যক্তি বা ঘটনাকে মূল্যায়ন করে।
মাহফুজ আলমের এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে পোস্টে উত্থাপিত বিষয়গুলো তাঁর ব্যক্তিগত মতামত; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।