সাভারে বোমা সদৃশ ৯ বস্তু উদ্ধার, পাঁচটি নিষ্ক্রিয়
সাভারের হেমায়েতপুরে একটি তিনতলা ভবনের নিচতলা থেকে নয়টি বোমা সদৃশ বস্তু, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, রাসায়নিক ও বিভিন্ন ধরনের তরল পদার্থ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা উদ্ধার করা বস্তুগুলোর মধ্যে পাঁচটি নিষ্ক্রিয় করেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। প্রায় রাত ২টার দিকে অভিযান শেষ হওয়ার পর উদ্ধার করা সরঞ্জাম ও অন্যান্য আলামত পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আরিফ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি তিনতলা ভবন ঘিরে অভিযান শুরু করে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও স্থানীয় থানা-পুলিশ। পরে সেখানে যোগ দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ শ্যামপুরের ওই ভবনে অভিযান চালানো হয়। ভবনের নিচতলার একটি কক্ষ তল্লাশি করে নয়টি বোমা সদৃশ বস্তু, বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিরাপত্তা ঘিরে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় এলাকা
নিরাপত্তার স্বার্থে রাত ১১টার পর বাড়িটির আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার পর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে পাঁচটি বোমা সদৃশ বস্তু নিষ্ক্রিয় করে।
এ সময় বিকট শব্দ শোনা যায় এবং আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়। তবে ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাড়ির মালিকপক্ষ জানিয়েছে, মাত্র তিন থেকে চার দিন আগে কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা আরিফ হোসেন নিচতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটটি নেওয়ার পর তিনি সেটি বন্ধ করে রেখে চলে যান বলে দাবি মালিকপক্ষের।
জেএমবির সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসি একজনকে আটক করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দক্ষিণ শ্যামপুরের ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)–এর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানে জেএমবির কিছু লিফলেট, ককটেল সদৃশ বস্তু এবং বোমা তৈরির উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধারের কথাও জানান তিনি। তবে উদ্ধার করা বস্তুগুলো প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের এবং সেগুলোর ব্যবহার বা উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্ত ও পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার
এর আগে প্রায় এক সপ্তাহ আগে সাভারের আশুলিয়ার একটি মুদি দোকানের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় বড় আকৃতির একটি বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি নিষ্ক্রিয় করে। অল্প সময়ের ব্যবধানে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।