গ্যাস সরবরাহে ফের সংকট, বাড়ছে লোডশেডিং; তীব্র গরমে দুর্ভোগ
একটু স্বস্তির পর আবারও বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ টার্মিনালে ভিড়তে না পারায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ কমে গেছে। এর সঙ্গে এক্সিলারেট এনার্জির আংশিক চালু থাকা টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আরও কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার বিকেল থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে দৈনিক প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ এখন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট। এর আগে এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালুর পর সরবরাহ বেড়ে দৈনিক প্রায় ৭৫ কোটি ঘনফুটে উঠেছিল।
এদিকে আংশিক চালু থাকা এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে প্রায় ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হতে পারে। এতে এলএনজি সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গ্যাসের ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিংও দ্রুত বাড়ছে।
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকটে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টারও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোনো কোনো এলাকায় ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা। কোথাও কোথাও ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরেও জড়াচ্ছেন।
সাময়িক স্বস্তির পর ফের বেড়েছে লোডশেডিং
গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ার পাশাপাশি ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ পাওয়ায় গত সোমবার সাময়িকভাবে লোডশেডিং কমেছিল। গত রোববার মধ্যরাতের পর জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি থাকলেও সোমবার মধ্যরাতের পর তা ২ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত লোডশেডিং ছিল ১ হাজার থেকে ২ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। তবে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং বেড়ে ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।
বৈরী আবহাওয়ায় আটকে এলএনজি
বর্তমানে দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালনায় দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ রয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। সাগর উত্তাল থাকায় সামিটের এফএসআরইউতে নতুন এলএনজি কার্গো যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। অতিরিক্ত বাতাস ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা একটি এলএনজিবাহী জাহাজ সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে গেছে। ফলে সামিটের টার্মিনালে নতুন কার্গো যুক্ত হয়নি।
এর প্রভাবে সোমবার বিকেল থেকে ওই টার্মিনালের সরবরাহ কমে দৈনিক প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। আগামী ১৫ আগস্ট নতুন একটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন কার্গো যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।
পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে বন্ধ হবে এক্সিলারেটের টার্মিনাল
গত ২১ জুলাই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই সপ্তাহ পর ৬ আগস্ট আংশিক মেরামত শেষে সেখান থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে টার্মিনালটি থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে এর সক্ষমতা ছিল ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, মহেশখালীর টার্মিনালটি বর্তমানে দুটি বয়লারের মধ্যে একটি দিয়ে চালানো হচ্ছে। পূর্ণ সক্ষমতায় নিতে হলে অপর বয়লারটিও সচল করতে হবে। এ জন্য টার্মিনালটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। এতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে।
তিনি বলেন, কখন টার্মিনালটি বন্ধ রাখলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য গ্রাহকের ওপর তুলনামূলক কম প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে আলোচনা চলছে।
গরমে নাকাল বিভিন্ন এলাকার মানুষ
গ্যাস সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টায় সব মিলিয়ে ১২ ঘণ্টারও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কয়েক দিন ধরে বিশেষ করে রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও সুবিদখালী সদর এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার পর অল্প সময়ের জন্য সরবরাহ ফিরছে, আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তীব্র গরমে রাতে ঘুমাতে না পেরে অনেক মানুষকে বাইরে সময় কাটাতে হচ্ছে।
সিলেট নগরীতেও দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নগরের পানি সরবরাহ, সড়কবাতি, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবাও ব্যাহত হয়। পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সিলেটে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে লোডশেডিং কমানোর আশ্বাসও দিয়েছেন তাঁরা।
লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ, নিরাপত্তা চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তাতেও। গোপালগঞ্জে বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলার আশঙ্কায় পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জ পৌর এলাকায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৫ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন জেলা পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহলের অনুরোধ করেছেন। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও লোডশেডিং নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। গত ১ আগস্ট রাতে তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে গ্রাহকেরা আফতাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এরিয়া অফিস ঘেরাও করেন। পরে গত সোমবার সন্ধ্যার আগে ওই কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ
জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতকে আরও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যোগ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে তেল আমদানির সুযোগ দিতে একটি সাধারণ নীতিমালা তৈরির কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রাজধানীতে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নয়, বরং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেই বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অযথা আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কালোবাজারি ও অনলাইনভিত্তিক জ্বালানি বিক্রির ঘটনাও ঘটে। এ পরিস্থিতির পর বেসরকারি খাতকে তেল আমদানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গ্যাসের চাপ কমে গেলে উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ও নগদ অর্থপ্রবাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। এর ফলে ব্যাংক ঋণ খেলাপির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এ কারণে কোনো ব্যবসায়ী যেন শুধু গ্যাস সংকটের কারণে খেলাপির তালিকায় না ওঠেন, সরকার সেটি চায়।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা-সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন প্রতিবছর প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট করে কমছে।
তিনি জানান, একটি নতুন এফএসআরইউ চালু করতে সাধারণত ৩০ থেকে ৩৬ মাস সময় লাগে। তবে দুই বছরের কম সময়ে তৃতীয় এফএসআরইউ চালুর চেষ্টা চলছে। তৃতীয় ও চতুর্থ এফএসআরইউর পাশাপাশি মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং লেনদেন পরামর্শক নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
এ ছাড়া এলপিজির বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাল্ক এলপিজি আমদানির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় একক কোনো সমাধান নেই। গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে যুক্ত করে গ্যাস অনুসন্ধান এবং পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনাময় স্তরগুলো কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি প্রয়োজন হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। তাঁর ধারণা, ২০৩০ সালে দেশে গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
নতুন এলএনজি টার্মিনালে বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহ
দেশে বড় পরিসরে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে একটি বিদেশি বেসরকারি উদ্যোক্তা গোষ্ঠী আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। তিনি বলেন, উদ্যোক্তারা সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাব পাওয়ার পর তা যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নতুন এফএসআরইউ প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির প্রকল্প সরাসরি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সরকার জিটুজি পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে যোগ্যদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত প্রস্তাব পাওয়ার পর দরকষাকষি হবে। আলোচনা সন্তোষজনক হলে চুক্তি সম্পাদন করা হবে।
দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনেই জিটুজি পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।