রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সংসদে শুরু প্রস্তুতিমূলক সভা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে গত রোববার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে কারা রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামও রয়েছে আলোচনায়।
এ ছাড়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন মহলে উঠে এসেছে। তবে বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, রাষ্ট্রপতি পদে দলের রাজনৈতিক ও দলীয় নেতৃত্বের মধ্য থেকেই কাউকে বেছে নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জোটের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।
পরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে তারা মুখ্য হিসেবে দেখছেন না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া এবং দেশে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই তাদের মূল লক্ষ্য। নির্বাচন কমিশন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ আগস্ট। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা।
ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট নেওয়া হবে। এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এরই অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করেন।