কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৮ কিশোরকে ঘিরে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হট্টগোলের মধ্যে কয়েকজন কিশোর থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থানার সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে অভিভাবকেরা কয়েকজনকে ধরে আবার থানায় নিয়ে যান।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন আড্ডাস্থলে অভিযান চালায় পুলিশ। সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা ও বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দেওয়ার অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সন্দেহে ২৮ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, আটক কিশোরদের থানাহাজতের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা হয়েছিল। একসঙ্গে এতজনকে রাখায় সেখানে কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তবে থানার কোনো কক্ষের দরজা বা আসবাব ভাঙচুর হয়নি বলে দাবি পুলিশের।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে থানার একটি কক্ষের ভেতরে উল্টে থাকা একটি প্লাস্টিকের চেয়ার দেখা যায়। কক্ষটির দরজাও ভাঙা অবস্থায় দেখা গেছে। তবে ভিডিওটির প্রেক্ষাপট ও দরজাটি কীভাবে ওই অবস্থায় হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় একজন বাসিন্দার দাবি, আটক কিশোরদের কয়েকজন ওই কক্ষ থেকে চেয়ার ও দরজা ভাঙচুর করে বের হয়ে যায়। পরে তারা থানার সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম হ্যান্ডমাইকে কথা বলে কিশোরদের অভিভাবক ও স্বজনদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এ সময় কয়েকজন কিশোর থানার বাইরে চলে গেলেও পরে তাদের অভিভাবকেরা ধরে আবার থানায় নিয়ে আসেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক রেজুয়ানুল হক বলেন, ২৮ কিশোরকে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা হয়েছিল। একসঙ্গে অনেকজন থাকায় সেখানে কিছুটা ঝামেলা হয়েছিল। তবে থানার কোনো কক্ষের দরজা বা আসবাব ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি জানান, রাতে কিশোরদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে আনা হয়। পরে তাঁদের জিম্মায় সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, আটক কিশোরদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড নেই। তারা সহপাঠীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে আড্ডা দিচ্ছিল। আটকের খবর পেয়ে অভিভাবক ও স্বজনেরা থানার সামনে জড়ো হলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন আড্ডাস্থলে না বসার বিষয়ে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় আটক কিশোরদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, থানায় বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি ভুল–বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি কেটে দেন।