পিত্তথলিতে অস্ত্রোপচারের সময় চুয়াডাঙ্গা শহরের উপশম নার্সিং হোম নামে একটি ক্লিনিকে রবগুল মোল্লা নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্লিনিকটিতে ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে ৪৮ ঘণ্টা সব ধরনের বেসরকারি ক্লিনিক কার্যক্রম ও প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রেখেছেন চিকিৎসকরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে জেলা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে অংশ নেন ক্লিনিক মালিক অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দও।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা জেলার সব সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসক প্রাইভেট প্র্যাকটিস থেকে বিরত থাকবেন। তবে সাধারণ মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবার কথা বিবেচনায় সরকারি হাসপাতালগুলোর স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা কার্যক্রম যথারীতি চালু থাকবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএমএর সভাপতি ডা. হাসানুজ্জামান নূপুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার রাতে দীর্ঘ আলোচনার পর এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্লিনিকের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রবগুল মোল্লার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উপশম নার্সিং হোম ক্লিনিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্বজনরা প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে, রাত ১১টা পর্যন্ত, দফায় দফায় ক্লিনিকে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এসময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএমএর আহ্বায়ক ডা. হাসানুজ্জামান নূপুরের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
নিহত রবগুল মোল্লা (৪৫) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রামের খেজমত মোল্লার ছেলে। পেশায় কৃষক রবগুল স্থানীয় একটি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পিত্তথলিতে পাথরের অস্ত্রোপচারের জন্য শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রবগুল মোল্লাকে উপশম নার্সিং হোম ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরদিন শনিবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে ক্লিনিকের মালিক ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এহসানুল হক তন্ময় অস্ত্রোপচার শুরু করেন। অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক হিসেবে সেখানে ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাইসুল ইসলাম জুয়েল। সেখানে অস্ত্রপচারের সময় অপারেশন থিয়েটারের টেবিলেই মারা যান রবগুল মোল্লা।