টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির দুই অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার ও সোমবার পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হ্নীলা সীমান্তের মৌলভীবাজার এলাকায় অভিযান চালায় উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)। অভিযানের সময় সীমান্তের ওপার থেকে কয়েকজন ব্যক্তিকে বস্তা মাথায় নিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের থামার নির্দেশ দিলে সন্দেহভাজনরা বস্তাগুলো ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের থামাতে বিজিবি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলোর ভেতরে ৪০টি প্যাকেটে মোট ৪ লাখ ইয়াবা পাওয়া যায়।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্তে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। মাদক পাচার বন্ধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, এর এক দিন আগে রোববার (২৩ আগস্ট) নাফ নদীসংলগ্ন লেদা খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)। অভিযানে একটি বাটন মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। বিজিবি জানায়, মিয়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে মাদক ও অস্ত্রের একটি চালান বাংলাদেশে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে লেদা খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযানে থাকা বিজিবি সদস্যরা প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে একটি কাঠের নৌকায় তিন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখতে পান।
নৌকাটি নাফ নদীর তীরবর্তী কেওড়া বাগানের কাছে পৌঁছালে সন্দেহভাজনদের আটক করার চেষ্টা করে বিজিবি। এ সময় তারা একটি মাদকের চালান ফেলে নৌকাযোগে দ্রুত মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।
পরে ওই এলাকা ও আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে কেওড়া বাগানের পাশে পড়ে থাকা একটি ছোট মাছের ঝুড়ি থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান বন্ধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নাফ নদী ও সীমান্তের দুর্গম এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রগুলোকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি জানিয়েছে, উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে মাদক পাচার ঠেকাতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও অন্যান্য আলামতের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।