৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোট গ্রহণ থেকে শুরু করে ব্যালট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ-পুরো প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হবে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে।
ভোট দেবেন যেভাবে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট দিতে সংসদ সদস্যদের কয়েকটি নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে: সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।
ব্যালট সংগ্রহ: নিজ আসনে বসার পর সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট সদস্যের নাম ও বিভক্তি নম্বর মুদ্রিত ব্যালট পেপার সংগ্রহ করতে হবে।
কাউন্টার ফয়েলে নাম: ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে তা সহায়তাকারী কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে।
ভোট প্রদান: ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে ভোট দিতে হবে। ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ থাকলেও সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরের পরিবর্তে পূর্ণ নাম লেখার নির্দেশনা রয়েছে।
ব্যালট বাক্সে জমা: ভোট দেওয়া শেষ হলে ব্যালট পেপার সংসদ কক্ষে রাখা নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে।
কোনো কারণে ব্যালট পেপার নষ্ট হয়ে গেলে সেটি ব্যালট বাক্সে না দিয়ে নির্বাচনকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। পরে নির্বাচনকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
ভোটকক্ষে মানতে হবে যেসব নিয়ম
ভোটগ্রহণ চলাকালে সংসদ সদস্যদের বৈঠকে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচার চালানো যাবে না। ভোটকক্ষে বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়ারও সুযোগ থাকবে না। ভোট দেওয়ার সময় কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে চিফ হুইপ ও বিরোধীদলের চিফ হুইপের সহযোগিতা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
গণনা হবে যেভাবে
বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভোট গণনা শুরু হবে। তবে সব সংসদ সদস্য নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোট দিয়ে ফেললে তার আগেও গণনা শুরু করা যেতে পারে। গণনার সময় প্রথমে কতজন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন, তা নির্ধারণ করা হবে। এরপর বৈধ ও বাতিল ব্যালট আলাদা করে হিসাব করা হবে। একই সঙ্গে অব্যবহৃত ব্যালটের সংখ্যাও নির্ধারণ করা হবে।
এরপর প্রতিটি প্রার্থী কতটি বৈধ ভোট পেয়েছেন, তা গণনা করা হবে। সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচনকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।
মোট ভোট ৩৪৯
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন সদস্য। সংসদ ভবনের নির্ধারিত বুথে আসন নম্বর অনুযায়ী তাঁরা ভোট প্রদান করবেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে গণনা। গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
অর্থাৎ ভোট গ্রহণ, ব্যালট যাচাই, বৈধ-বাতিল ভোট নির্ধারণ এবং প্রার্থীদের ভোট গণনার পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন।