ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে সন্দেহভাজন পাকিস্তানি নাগরিক গ্রেপ্তার
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাবড়া এলাকায় পাকিস্তানের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। ওই ব্যক্তির পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় পুলিশ। হাবড়া এলাকাটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম রানা রউফ। এসটিএফের দাবি, তিনি পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা। প্রায় এক যুগ আগে নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কলকাতায় বসবাস করছিলেন তিনি। মঙ্গলবার গভীর রাতে হাবড়া এলাকা থেকে রানা রউফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, কলকাতার তপসিয়া এলাকায় ‘ওয়াহাব’ নামে পরিচয় দিয়ে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি।
সেনা-নৌবাহিনী ও রেল নিয়ে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ
এসটিএফের ভাষ্য, রানা রউফের কাজ ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও রেলওয়ে-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো। তদন্তকারীরা জানান, সম্প্রতি ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন রানা। এ উদ্দেশ্যে তিনি হাবড়া এলাকায় গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে গোপন অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে পাকিস্তানের একাধিক নম্বরে যোগাযোগের তথ্য এবং ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী ও রেল-সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
জাল নথি তৈরির অভিযোগে আরও একজন গ্রেপ্তার
রানা রউফকে জাল নথি তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে কলকাতার তপসিয়া এলাকা থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ভারতে প্রবেশের পর রানা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে বর্ধমানে দুজন গ্রেপ্তার
এর কয়েক দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তাঁদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং তাঁর গতিবিধির ওপর নজরদারির অভিযোগ আনা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এসব গ্রেপ্তারের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।