দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত তৃতীয় ঢাকা-চায়না ডে-২০২৬ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণেও আরও কঠোর হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিশ্চিত করতে অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে আরও কার্যকরভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশন এজেন্সির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষা খাতের মানোন্নয়নে অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এহছানুল হক মিলন বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে একটি ক্যাম্পাস স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা খাতের উন্নয়নই জাতির সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একসময় শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশের মতো বরাদ্দ ছিল। ভবিষ্যতে তা ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশও এগিয়ে যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তরুণদের একটি অংশের পথভ্রষ্ট হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজ পরিবর্তনে শিক্ষার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশপ্রেম ও ইতিবাচক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।