ফুটবল মাঠে লাল ও হলুদ কার্ডের সঙ্গে সবাই পরিচিত। তবে এবার ইউরোপের ফুটবলে দেখা গেল একেবারেই ভিন্ন ধরনের শাস্তির সংকেত—‘ব্ল্যাক কার্ড’। আশ্চর্যের বিষয়, এই কার্ড খেলোয়াড়দের অপরাধের জন্য নয়; বরং শিশু-কিশোরদের ফুটবল ম্যাচে অভিভাবক ও দর্শকদের অসৌজন্যমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণেই এর ব্যবহার শুরু করেছে রোমানিয়া ফুটবল ফেডারেশন।
রোমানিয়া ফুটবল ফেডারেশনের নতুন এই উদ্যোগের আওতায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সি খেলোয়াড়দের বয়সভিত্তিক ম্যাচে গ্যালারিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের আচরণ নজরদারি করা হবে। গালাগালি, হুমকি, ধাক্কাধাক্কি কিংবা অন্য কোনো আপত্তিকর আচরণ করে পরিবেশ নষ্ট করলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে রেফারির।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুদের ফুটবল মাঠে আনন্দ, খেলাধুলা ও সুস্থ বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। বড়দের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা, অতিরিক্ত প্রত্যাশা কিংবা হতাশা যেন কোনোভাবেই শিশু খেলোয়াড়দের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেটিই নতুন নিয়মের অন্যতম লক্ষ্য।
কীভাবে কার্যকর হবে ‘ব্ল্যাক কার্ড’?
কোনো দর্শক বা অভিভাবকের আপত্তিকর আচরণ শুরু হলেই সরাসরি ব্ল্যাক কার্ড দেখানো হবে না। প্রথম ধাপে রেফারি সতর্ক করবেন। প্রয়োজনে কোচদের মাধ্যমে গ্যালারির দর্শকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানানো হবে এবং মাইকে দেওয়া হবে সতর্কবার্তা।
এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ম্যাচ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। এ সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে এবং ১০ মিনিটের বিরতি দেওয়া হবে।
শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে ম্যাচ
সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এরপরের ধাপে। সতর্কতা ও সাময়িক বিরতির পরও গ্যালারির অশোভন আচরণ বন্ধ না হলে রেফারি ‘ব্ল্যাক কার্ড’ দেখাতে পারবেন। তখন ম্যাচ আর পুনরায় শুরু করা হবে না।
রোমানিয়া ফুটবল ফেডারেশনের জরুরি কমিটি ১১ সেপ্টেম্বর এই নতুন বিধান অনুমোদন করেছে। শিশুদের বয়সভিত্তিক ফুটবলে দর্শক ও অভিভাবকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে এমন পদক্ষেপকে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।