আট বছরের অবুঝ শিশু আছিয়ার নির্মম চির বিদায় এবং তার বিচার চেয়ে মা আয়েশা বেগমের দীর্ঘশ্বাসের ঘটনাটি দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। বোন জামাইয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে যেভাবে সে নির্যাতনের শিকার হয়ে সিএমএইচে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল, তার বিচার প্রক্রিয়া আজ এক মানবিক সংগ্রামের প্রতীক।
মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মাত্র ১৩ কার্যদিবসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুনানি ও ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন। বিচারিক আদালতের সেই রায় আজ অনুমোদনের অপেক্ষায় হাইকোর্টে থমকে আছে।
আইনি প্রক্রিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি
হাইকোর্টের রায় স্থগিত: ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণার ধার্য দিনে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের কারণে রায় পিছিয়ে আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান: অ্যাটর্নি জেনারেল দেশের বাইরে থাকায় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করেন।
বিচারপতিদের নির্দেশনা: বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে নতুন তারিখ ধার্য করেন।
এক আর্ত-মা ও বিচারহীনতার শঙ্কা
রায়ের তারিখ বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় আছিয়ার মা আয়েশা বেগমের যন্ত্রণা নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। এক দেড় বছরের দীর্ঘ বিচারিক প্রতীক্ষার পর নিজ বাড়ির ভাঙ্গা ঘরের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে একজন মায়ের আক্ষেপ প্রকাশ পায় তাঁর আকুল বাক্যে ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো রায়ই তিনি মানতে নারাজ।
আদালতের প্রতিটি স্থগিতাদেশ একজন বিচারপ্রার্থী মায়ের কাছে নতুন করে আঘাত হয়ে আসে। যে শিশুটি রমজানের ছুটিতে নতুন আনন্দ নিয়ে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল, তার করুণ পরিণতি আজও কেবল আইনের ফাইল বন্দি বিচার নয়; এটি ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা সমাজের এক মানবিক কান্না।